ত্বক ও শরীরকে নরম রাখার সহজ উপায়
ত্বক ও শরীর নরম ও কোমল রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো গোসলের পর হালকা ভেজা ত্বকে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার বা বডি লোশন ব্যবহার করা।শীতের আগমন মানেই ঠান্ডা আবহাওয়া হিমেল হাওয়া বয়ে চলে।
এই সময় সকালের দিকে কুয়াশায় ছেয়ে থাকে চারিদিক ঘাসের ওপরে শিরির পড়ে থাকে
দেখতে অনেক সুন্দর লাগে।সেই সুন্দর ঋতুর সাথে সাথে হাজির হয় বড় একটি সমস্যা এই
সময় তর্ক শরীরকে চরম শুষ্কতা।এই সমস্যার হাত থেকে বাঁচতে কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে
চললে বা শরিরের যত্ন নিলেই ত্বক হবে নরম তুলতুলে সুন্দর।
পেজ সুচিপত্রঃ ত্বক ও শরীরকে নরম রাখার সহজ উপায়
- ত্বকের যত্নে গোসলের পরে যে সকল জিনিস গুলো ব্যবহার করবেন
- ত্বকের সুরক্ষা করবেন যে সহজ উপায়ে
- ত্বকে বা শরীরে গরম পানি ব্যবহার করলে কি হয়
- ত্বকের যত্নে ঘরোয়া কিছু উপায় জেনে নিন
- ত্বকের সাথে সাথে হাত পায়ের যত্ন নিব যেভাবে
- ত্বকের যত্নের সাথে ঘুম ও খাবার
- ত্বকের যত্নে যেসব সাধারণ ভুল এড়াবেন জানুন
- শেষ কথা:ত্বক ও শরীরকে নরম রাখার সহজ উপায়
ত্বকের যত্নে গোসলের পরে যে সকল জিনিস গুলো ব্যবহার করবেন
ত্বক নরম ও সতেজ রাখতে সঠিক সময়ে ময়েশ্চারাইজ লাগানো। গোসল করার পর শরির যখন হালকা ভেজা থাকে তখন শরিরের লোমের গোড়া গুলোর মুখ খোলা থাকে।এই সময় ত্বকে কোনো কিছু লাগালে ত্বকের ভেতরের আদ্রতা দরে রাখে বডি লোশন ত্বকের ভিতর পযন্ত পৌঁছাতে পারে। দীর্ঘদিনের অযত্ন অনিয়মের জন্য আমাদের ত্বক অনেক টাই নষ্ট হয়ে যায়।তাই ত্বকের সুস্থতার জন্য অবশ্যই নিয়ম গুলো মেনে চলতে হবে তাহলে আপনার ত্বক অনেক সুন্দর থাকবে।ত্বকের সুরক্ষা করবেন যে সহজ উপায়ে
অতিরিক্ত রোদে থাকলে ত্বকের কোষে ধীরে ধীরে অনেক ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু একটা বিষয় খেয়াল করলে দেখা যায় রোদে থাকার জন্য জে ক্ষতি টা৷ হয় সেটা সাথে সাথে বোঝা যায় না। রোদে থাকার পরে শরিরের কিছু জায়গায় কালচে দাগ দেখা দেয় এগুলো আসতে আসতে বেশি চোখে পড়ে।তাই বেশি সময় ধরে রোদে থাকবেন না এটা থেকে বিরত থাকুন।
বাইরে বের হলে একটি ছাতা নিয়ে বের হন এতে আপনার ত্বকে রোদের তেমন কোনো
প্রভাব ফেলবেনা।কিছু টা সময় ছায়া যুক্ত জায়গায় থেকে আপনার প্রয়োজনীয় কাজ
করুন।ফুলহাতা হালকা পোশাক, ওড়না, টুপি দিয়ে ত্বকের খোলা অংশ ঢেকে
রাখুন।
ত্বকে বা শরীরে গরম পানি ব্যবহার করলে কি হয়
শীতকাল হোক বা বর্ষার সময় এই সময়ে খুব গরম পানি দিয়ে গোসল করা যাবে না। কিন্তু এই সময় গুলোতে গরম পানি দিয়ে গোসল করতে অনেকে পছন্দ করেন। কিন্তু ত্বকের জন্য এই অভ্যাস মোটেও ভালোনা। গারম পানি ব্যবহার করার ফলে ত্বকের স্বাভাবিক তেল কমিয়ে দেয় এতে শরির বা ত্বক খসখসে হয়ে যায়।
অনেক সময় এর জন্য ত্বকে চুলকানি দেখা দেয়। আর আপনার ত্বক যদি আগে থেকে খসখসে
থাকে তাহলে গরম পানি ব্যবহারে এটা আরো বেশি সমস্যা তৈরি করবে।এরজন্য গোসল শেষ
করে তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে মুছে সাথে সাথে হালকা ভেজা অবস্থায় বডি লোশন লাগিয়ে
নিন।
ত্বকের যত্নে ঘরোয়া কিছু উপায় জেনে নিন
ত্বকের কালচে দাগ দুর করতে টমেটো, মধু এবং মসুর ডাল ব্যবহার করুন। ১টেবিল চামচ টমেটো পেস্ট,১চা- চামচ মধু এবং সাথে মিহি করা মসুর ডাল একসাথে মিশিয়ে নিন। এরপর মুখে পাতলা করে লাগিয়ে নিন এটি ১০ মিনিটের মতো রাখলে হবে। ১০ মিনিট রাখার পর স্বভাবিক পানি দিয়ে আলতোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
বেসন, হলুদ এবং টক দই এটা কিভাবে ব্যবহার করবেন আসুন জেনে নি।২ টেবিল চামচ
বেসন, বাটা হলুদ ও ২ টেবিল চামচ টক দই এগুলো একসাথে পেস্ট করে মিশিয়ে
নিন।এরপর মুখে লাগিয়ে ১৫থেকে ২০ মিনিট মতো রাখুন রাখার পর একটু শুকিয়ে আসলে
তখন পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্যবহার করে আপনার ত্বক পরিষ্কারের পাশাপাশি
ত্বককে করবে উজ্জ্বল।
অ্যালোভেরা,মধু এবং পাকা কলার পেস্ট কিভাবে তৈরি করবেন।অর্ধেক পরিমান পাকা
কলা পেস্ট করে নিবেন তার সাথে ১ চামচ মধু এবং সামান্য কিছু পরিমান
অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। এটি ৫থেকে ১০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে
ফেলুন।এই নিয়ম অনুযায়ী কিছু দিন মেনে চলুন দেখবেন আপনার ত্বকের সকল দাগ দুর
হয়ে যাবে এবং ত্বক হবে সুন্দর ও উজ্জ্বল।
ত্বকের সাথে সাথে হাত পায়ের যত্ন নিব যেভাবে
ত্বকের সাথে সাথে হাত পায়ের যত্ন নিব যেভাবে
পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ডোবা পানিতে পরিমাণমতো শ্যাম্পু গুলে নিন। সম্ভব হলে
গোড়ালির ওপরে যতটুকু সম্ভব পা ডুবিয়ে রাখুন। চাইলে তাতে যোগ করতে পারেন
খানিকটা গ্লিসারিন ও স্যাভলন। এই দ্রবণে হাত-পা ডুবিয়ে রাখুন। ত্বকের ধরন
এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এই ডুবিয়ে রাখার সময়টা ৫ মিনিট থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত
হতে পারে।
নেলকাটার দিয়ে নখ কেটে নিন। নখের চারপাশের কোণে কোথাও ত্বকের কোনো অংশ বেড়ে
থাকলে বা ত্বকের মৃত অংশ থাকলে সেটা সাবধানে সরিয়ে ফেলুন ক্ষুদ্র যন্ত্রের
নখ পরিষ্কার করার বিশেষ টুল সাহায্যে। তবে ত্বক রুক্ষ প্রকৃতির হলে ২ চা
চামচ টক দই ১ চা চামচ ওটস এবং ১ চা চামচ চিনির মিশ্রণ ব্যবহার করা
ভালো।কুসুম গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। নখ উজ্জ্বল ও চকচকে দেখাবে
তবে নেলপলিশ লাগাতে চাইলে ভিন্ন কথা।
ত্বকের যত্নের সাথে ঘুম ও খাবার
ত্বকের যত্ন শুধু বাইরে থেকে কিছু লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।এর পাশাপাশি
ঘুম ও খাবার ঠিক মতো জেনো হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।রাতে ঠিকমতো ঘুম নাহলে
অনেকের মুখে ক্লান্ত ভাব চোখের নিচে কালচে দাগ দেখা যায়।
খাবারের ক্ষেত্রেও কোনো একটি ফল পানীয় রাতারাতি ত্বক বদলে দেয় না। বরং
নিয়মিত ফল শাক
সবজি মাছ ডিম ডাল ইত্যাদি এগুলো খেলে শরিরে প্রোটিন এরা চাহিদা দুর
হয়।স্বাস্থ্য কর খাবার খেলে শরিরে ভিটামিন মিনারেল এর মতো পুষ্টি পাই যা
স্বাভাবিক ভাবে ত্বককে স্বাভাবিক রাখতে অনেক ভুমিকা বজায় রাখে।প্রতিদিন
শরিরের চাহিদা অনুযায়ী পযাপ্ত পরিমান পানি পান করতে হব।এতে করে শরির
সুস্থ্য ও সবল থাকবে।
আবার এগুলোর পাশাপাশি মানসিক চাপ থাকলে সরাসরি ত্বকের ওপরে প্রভাব
পড়ে।অতিরিক্ত টেনশনের ফলে শরিরে হরমোনের ক্ষরন বাড়ে যা ত্বকে অতিরিক্ত তেল
ব্রনের মতো সমস্যা দেখা যায়। তাই প্রযাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি মানসিক
স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া ত্বকের জন্য ভুমিকা পালন করে।
ত্বকের যত্নে যেসব সাধারণ ভুল এড়াবেন জানুন
ত্বকের যত্ন নিতে গিয়ে অনেক সময় আমরা এমন কিছু অভ্যাস করে ফেলি যেগুলো
উপকারের বদলে উল্টো ত্বকের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত যত্নের
পাশাপাশি কিছু ভুল এড়ানোও জরুরি চলুন বিস্তারিতি জানি?
- দিনে বারবার মুখ ধোবেন না অতিরিক্ত মুখ ধুলে ত্বকের স্বাভাবিক তেল কমে গিয়ে শুষ্কতা বাড়তে পারে।
- প্রতিদিন স্ক্রাব করবেন না। বেশি ঘষাঘষি করলে স্কিন ব্যারিয়ার দুর্বল হতে পারে এবং ত্বক লাল বা সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে।
- ব্রণ খোঁচাবেন বা ফাটাবেন না এতে প্রদাহ বাড়তে পারে এবং পরে দাগ থেকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- একসঙ্গে অনেক নতুন স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার শুরু করবেন না।
- শুধু মুখের যত্নেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না। হাত পা ঘাড় ও শরীরের অন্যান্য অংশের ত্বকও নিয়মিত পরিষ্কার ও যত্নে রাখা দরকার।
- জ্বালা বা চুলকানি হলেও কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহার চালিয়ে যাবেন না। ত্বকে অস্বস্তি হলে সেটি বন্ধ করে ত্বককে কিছুটা সময় দিন।
- ঘরোয়া হলেই নিরাপদ ধরে নেবেন না লেবু বেকিং সোডা টুথপেস্ট বা শক্ত স্ক্রাবের মতো কিছু উপাদান সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
শেষ কথা:ত্বক ও শরীরকে নরম রাখার সহজ উপায়
ত্বক ও শরীরকে নরম রাখার উপায়। ঘরোয়া উপায়ে সঠিক ভাবে ব্যবহার করলে
ত্বকের প্রাকৃতিক আদ্রতা বজায় রাখতে ও দাগ কমাতে বেশ কার্যকরী।যেকোনো
ফেসওয়াশ সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন ব্যবহার করা যথেষ্ট। অবশ্যই তৈলাক্ত
তোকেও প্রয়োজন আছে। তবে তেলযুক্ত ক্রিম এর বদলে হালকা ওয়াটার বেসড বা
জেল ব্যবহার কার ভালো।
সরাসরি কাঁচা হলুদ ব্যবহার করার ফলে ত্বকে ছোপ ছোপ হলুদ দাগ পড়তে পারে সব
সময় বেসন বা দইয়ের সাথে ব্যবহার করা ভালো। লেবুর রস বা অতিরিক্ত টক দই
উপাদান ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক
তেল শুষে নেয় তাই কুসুম গরম পানি বা স্বাভাবিক পানি ব্যবহার করা উচিত।তাই
সব সময় নিয়ম অনুযায়ী পরিমাণ মতো সব কিছু ব্যবহার করা উচিত। এতে আপনি
আপনার ত্বকের জন্য ভালো একটি পরিবর্তন দেখতে পাবেন।


স্কিল গ্লোবাল টেকের নীতিমালা মেনে কমেন্ত করুন সবগুলো রিভিউ করা হয়
comment url